ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং তেহরান নিজেই একটি সমঝোতা চুক্তি করতে চায় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে অতি সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা এই মুহূর্তে তাদের সাথে আলোচনায় যুক্ত রয়েছি। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তিনি অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরানের ইস্যুতে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।
সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ ট্রাম্প
ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌ-অবরোধ কার্যকর করেছে মাত্র।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সর্বাত্মক যুদ্ধের সাথে পরিস্থিতির তুলনা টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ লড়ছি না। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন যে, গত সাত মাসে এই সংঘাতজনিত ঘটনায় কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য বা সেনার প্রাণহানি ঘটেনি।
বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থনৈতিক সংকটের দাবি
যদিও বড় ধরনের যুদ্ধের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক সরঞ্জামের ওপর কিছু সুনির্দিষ্ট ও ছোট আকারের সামরিক হামলা চালিয়েছে। তারা নতুন একটি বিমান বিরোধী বা বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করেছিল। আমরা মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই সেটিকে আঘাত হেনে অকার্যকর ও ধ্বংস করে দিয়েছি।
তবে এই বিমান হামলাটি কখন বা ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন পদক্ষেপের মুখে ইরানের পুরো নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।


