...|...|...

ক্যাম্পাস

ইবিতে আইসিটি-বাংলা বিভাগের সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ২

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২৬
Shares
ইবিতে আইসিটি-বাংলা বিভাগের সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ২

ইবিতে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলামের বুকে আঘাত লাগে। একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদও গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তিনি জ্ঞান হারান।

ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মন্জুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর আব্দুল বারী ও খাইরুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুই বিভাগের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হয় এবং দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে কোলাকুলিও করেন।

আলোচনা শেষে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম অনুষদ ভবন থেকে বের হয়ে যান। পরে আইসিটি বিভাগের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী আবু সাইদ আহত হন।

এ ঘটনার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে গাছের ডালপালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসের যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর বিচারের আশ্বাস পেয়ে তারা প্রধান ফটক ছেড়ে যান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলী’তে দুই বিভাগের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়ায় ফেরার পথে শহরের জেলখানা মোড়ে বাস থেকে নামার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ‘গোধূলী’ বাসটি ছেড়ে যায়। বাসে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন বলে অভিযোগ করেন বাংলা বিভাগের এক জুনিয়র শিক্ষার্থী। পরে জেলখানা মোড়ে বাস থেকে নামার সময় এ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় জড়িত জুনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও বাপ্পি হোসেন। অন্যদিকে আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবু সাঈদ ও শামিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীও এতে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

আইসিটি বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আলোচনার পর তারা সমঝোতায় সম্মত হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। ওই সময় আমাদের সঙ্গে আটজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। হামলায় আমাদের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন শিক্ষকও আহত এবং দুইজন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা শেষে আমরা সবাই প্রক্টর অফিস থেকে নিচে আসছিলাম। সেসময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ছিল। তারা ওদের (আইসিটি) ওপর অ্যাটাক করেছে এবং সেখানে শিক্ষকরাও ছিলেন। শিক্ষকরাও এটা ট্যাকল করতে পারেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।