...|...|...

বিশ্ব

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ভারত

ইন্টারনেট-মেট্রো বন্ধসহ ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন, যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছে তরুণরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৫ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৫
Shares
ইন্টারনেট-মেট্রো বন্ধসহ ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন, যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছে তরুণরা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল দিল্লি। এদিকে ককরোচ-সমর্থকদের দিল্লি আসতে বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছে তরুণরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং শহরের বেশ কিছু বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ‘ককরোচ’ নামক যুব আন্দোলনের ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং সমালোচকদের মতে এই সংশোধনী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুকূলে যাওয়ার কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এই আন্দোলনটি গত সপ্তাহে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় রূপ নিতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ডেপুটিরা তার সাথে মতবিরোধ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।

বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে সরকার নিজেদের সুবিধামতো ভোটার তালিকা কারসাজি করার চেষ্টা করছে এবং ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা এই অভিযোগ আরও জোরালো করে তুলেছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

বিজেপির দাবি, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই তাদের নির্বাচনী আধিপত্যের মূল কারণ এবং বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হতে না পেরেই দেশকে বিভ্রান্ত করছে। তা সত্ত্বেও, বিরোধীদের প্রায় নিত্যদিনের এসব বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারের সামনে নতুন এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মুখে মোদির শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

এছাড়া, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে উত্তর প্রদেশসহ বিজেপিশাসিত ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলোতে একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যার ঠিক কয়েক মাস আগে এই বিক্ষোভ শুরু হলো।

অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম থেকে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা নতুন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত স্থান যন্তর মন্তরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিক্ষোভে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি

এদিকে পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা, পূর্বের বিক্ষোভের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার কথা বলে এই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ‘সিজিপি’ নেতারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ করা তাদের মৌলিক অধিকার এবং তারা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ীই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এর আগে, দিল্লি এবং যন্তর মন্তরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে শুক্রবার বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং শুক্রবার রাত থেকেই ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএনআই-এর সরকারি আদেশের বরাত দিয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ এলাকার ৪ কিলোমিটার (২.৫ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।