ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ডের গতি ও ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী, যার চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনে স্টারলিংক সংযোগের গতি সীমিত করা হয়। ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা কিছু ড্রোন ও অস্ত্র এই সীমাবদ্ধতার কারণে সংযোগ হারায়। এতে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়। কয়েকটি অভিযান বাতিলও করতে হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামরিক প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ জানান, এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এই পদক্ষেপ কাকতালীয় হতে পারে না; এর সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে।
ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ পরে জানান, ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে স্টারলিংক সংযোগ আবার সচল হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষার স্বার্থে সব ধরনের গতিসীমা তুলে নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড আলাদা সেবা। স্টারলিংক মূলত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটব্যবস্থা। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড মার্কিন সরকারের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত হয়। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার ড্রোন পরিচালনা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সম্মুখসারির সেনাদের রসদ সরবরাহে এসব যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। স্টারলিংকের সংযোগ ইলেকট্রনিক সংকেতের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও কার্যকর।
মাস্ক বলেছেন, স্টারশিল্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে। এ ব্যবস্থায় গতি বা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন মহাকাশবাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েভ, আশপাশের অঞ্চল ও খারকিভে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৩৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২০টির বেশি ড্রোন ছোড়ে রাশিয়া। হামলায় অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
একই সময়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আগের মতো আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করেনি বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভবিষ্যতে এ সহায়তা সীমিত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের জন্যও চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের এসব হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তবে স্টারলিংক সংযোগ সীমিত করার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, যুদ্ধের জন্য আরও সহায়তা চাইতে বুধবার লন্ডনে পৌঁছেছেন জেলেনস্কি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাজ্যে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন। জেলেনস্কি বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।



