অনলাইনে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনছে সরকার। শিক্ষার মান বাড়াতে ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে এই তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য কেবল প্রতিবেদন তৈরি করা নয়; বরং শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, তদারকি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক মাসে ৬০০ ঘণ্টার বেশি আলোচনা এবং তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সাল থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন কারিকুলামে বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা ও ডিজিটাল কনটেন্টের ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন সমন্বিত করে নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া এখন থেকে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করা হবে।
স্কুল অবকাঠামো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূরবর্তী, পাহাড়ি ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য মানানসই ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপযোগী আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সংলাপে উঠে আসা সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো একসাথে কাজ করবে।


