...|...|...

সংবাদ

মধ্যস্থতায় বিএনপি

আমির হামজার সাথে সমঝোতায় গণঅধিকার পরিষদের নেতারা

এমদাদুল হক, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:১৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৯
Shares
আমির হামজার সাথে সমঝোতায় গণঅধিকার পরিষদের নেতারা

এমপি আমির হামজার সাথে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জজ কোর্টের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শামীম-উল হাসান অপুর উদ্যোগে দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই জানায়নি।

বৈঠকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক বিরোধকে আর সংঘাতের দিকে না নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকে একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

জামায়াতের একটি সূত্রে জানা গেছে, গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এ সময় এমপি আমির হামজা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় জামায়াতের সাথে কথা বলে সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেন।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কর্মসূচি চলাকালে মুফতি আমির হামজার গাড়িবহর ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে আমির হামজার গাড়ির কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গাড়ির কাচ ভেঙে আমির হামজা মাথায় আঘাত পান। তার সঙ্গে থাকা এক আত্মীয়ও আহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মী ও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। দুই পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পরস্পরকে দায়ী করে।

ঘটনার পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথক মামলা হয়। আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের করা হয়। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তাদের কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগে পাল্টা মামলাও করা হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় মোট ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর ছয় রাস্তার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এ বিরোধের প্রেক্ষাপটে ২৪ আগস্টের বৈঠককে উত্তেজনা প্রশমনের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, দুই পক্ষের মধ্যে মামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলমান থাকার মধ্যেই নেতাদের এক টেবিলে বসার ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে।

বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, কিংবা মামলা ও আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত রাখার উদ্যোগ হিসেবে বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।