যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না তার দেশ। কানাডা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য নয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) গভীর রাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, কানাডা “রাষ্ট্র না হয়েও রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগ করতে চায়”। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডার কারণে বিপুল পরিমাণ শুল্কের চাপ রয়েছে।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।
কার্নি বলেন, “তারা অনেক বেশি চেয়েছিল এবং খুব কম প্রস্তাব দিয়েছিল। যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখনই আপনি যুদ্ধে আছেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু শর্ত কানাডার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে অন্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে কানাডার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা যা প্রস্তাব করেছে তা আমরা গ্রহণ করতে পারি না, এবং তারা যা চেয়েছে তা আমরা দেব না।”
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম অঙ্গরাজ্য” করার বিষয়ে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করে আসছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যও কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত একটি ভুল হিসাব। তার দাবি, এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নতুন মার্কিন শুল্কের আওতায় কানাডার বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি, কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত।
তবে কানাডার দাবি, এই শুল্কের আওতা সীমিত হলেও এটি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় আমদানিকে প্রভাবিত করবে।
এদিকে কানাডার বিরোধী দল ও বিভিন্ন প্রদেশের নেতারাও প্রধানমন্ত্রী কার্নির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্টারিওর নেতা ডাগ ফোর্ড বলেন, ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা কঠিন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি বলেন, কানাডার বাণিজ্যিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের দাবি দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যের মতো করে তুলবে, যা কোনো কানাডিয়ান গ্রহণ করবে না।
বাণিজ্য আলোচনার ব্যর্থতার ফলে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে প্রায় ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাণিজ্যের ভিত্তি এই চুক্তি।
দুই দেশের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ভবিষ্যতে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


