...|...|...

বিশ্ব

স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্য হারানো ইরানির আর্তনাদ

আমরা প্রথম সন্তানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই আঘাত হানল মরণঘাতী বোমা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫১
Shares
আমরা প্রথম সন্তানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই আঘাত হানল মরণঘাতী বোমা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর নিজের পরিবারের ১২ জন সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জায়ি। হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মুহাদ্দেসাও। তরুণের দলটি সবে মাত্র নিজেদের একটি নতুন পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্নে বুঁদ ছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের হামলায় তছনছ হয়ে যায় তাদের সবকিছু। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’য় ফাতেমেহ করিমখানের লেখা এক বিশেষ প্রতিবেদনে হামেদ মির্জায়ির এই হৃদয়বিদারক গল্পটি তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৬ সালের ৯ মার্চ নিজেদের বাসভবনে সংঘটিত ওই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা কীভাবে তার জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছে, সেই বিষাদময় স্মৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তরুণ হামেদ বলেন, বোমা হামলার পর দেখতে দেখতে সাতটি মাস কেটে গেছে। কিন্তু এখনও বহু দিন আমি যখনই চেতনা ফিরে পাই, নিজেকে সেই ধ্বংসস্তূপে ফিরে পেতে দেখি—যেখানে আমি আপ্রাণ খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার প্রিয় মানুষদের।

ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িটির পেছনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, যে ভবনটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি আমার দাদা এবং আমার বাবার চাচা যৌথভাবে তৈরি করেছিলেন। পরে তারা ভবনের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট নিজেদের সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। মাত্র এক বছর আগে যখন আমার বিয়ে হয়, তখন স্ত্রী মুহাদ্দেসাকে নিয়ে আমিও এই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সংসার শুরু করি। আমরা আমাদের প্রথম সন্তানের আগমনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলাম। আমরা তরুণ ছিলাম, আমাদের সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই আঘাত হানল সেই মরণঘাতী বোমা।

যে হামলার এক নিমেষেই কেড়ে নেওয়া হলো ১২টি তাজা প্রাণ, সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আজও বিচার ও সান্ত্বনা খুঁজে বেড়চ্ছেন এই নিঃস্ব তরুণ।