বৃষ্টির দিনে ছাতা মাথায় বের হতে হবে নাকি বাড়বে তাপদাহ—এমন খবরের খোঁজে গুগলে সার্চ করে আবহাওয়া অধিদফতরের নম্বর পেতে গিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাভারের এক তরুণ।
গুগলের কারিগরি ভুলের কারণে সরকারি এই দফতরের নম্বরের জায়গায় যুক্ত হয়েছিল সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের নতুন বন্দর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানার ব্যক্তিগত নম্বর। ফলে সরকারি দায়িত্বে না থেকেও দিন-রাত দেশের সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিনামূল্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ছুটেছে তার।
নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মাসুদ রানা আশুলিয়ার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। পূর্বে একটি ইলেকট্রিক ফ্যান কোম্পানির শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি বেকার। বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট বোনকে নিয়ে চলা অসচ্ছল সংসারে গুগলের এই ভুল যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছিল।
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা আক্ষেপ করে জানান, ২০০৯ সাল থেকে বাবার নামে নিবন্ধিত সিমটি তিনি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে হঠাৎ গুগলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর লিখে সার্চ করলেই তার ব্যক্তিগত নম্বরটি দেখানো শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টা আসা এসব ফোনকলে বৃষ্টির খবর, ভূমিকম্পের মাত্রা বা তাপমাত্রা জানতে চাওয়া হতো। সম্প্রতি গুগল নম্বরটি সংশোধন করলেও এই দীর্ঘ দিনের বিড়ম্বনায় তার জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক মো. নূরুল করিম জানান, এটি গুগলের প্রযুক্তিগত ভুল। তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকলেও গুগলে কোন নম্বর প্রদর্শিত হচ্ছে, তা তাদের দফতরে দেখার বিষয় নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার এ বিষয়ে বলেন, গুগলের ওপেন কোলাবোরেটিভ ফিচারের কারণে যে কেউ কোনো লোকেশন পিন করে তথ্য দিতে পারে। সম্ভবত অতীতে কেউ ভুলবশত মাসুদের নম্বর দিয়ে পিন জেনারেট করায় এই দীর্ঘ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। এ ধরনের ভুল তথ্য চোখে পড়লে দ্রুত ‘রিপোর্ট’ বা ‘ফ্ল্যাগ’ করার পরামর্শ দিয়েছেন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

