সেদিকুল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি ও রশিদ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানদের এই বড় জয় বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ আরও কঠিন করে তুলেছে। জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করা তাওহীদ হৃদয়ের দলের সামনে এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি কার্যত অলিখিত ফাইনাল। ফাইনালে জায়গা করে নিতে জয়ের পাশাপাশি নেট রান রেটের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ২৯৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা জিম্বাবুয়ে ৩৮.৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফাইনালে উঠতে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল ১৯৬ রান। তবে এই হারে তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন দলই প্রতিযোগিতায় টিকে আছে।
পয়েন্ট তালিকায় এক ম্যাচে এক জয় নিয়ে ৩.১৬০ রান রেটে শীর্ষে আফগানিস্তান। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে –০.৫৯০ রান রেটে দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ে। এক ম্যাচে হেরে –১.৯৮০ রান রেটে তৃতীয় বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে বুধবার আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি রান রেটেও জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ আগে ব্যাট করলে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হবে। আর পরে ব্যাট করলে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে। যেমন, আফগানিস্তান ৩০১ রানের লক্ষ্য দিলে ৪২.২ ওভারের মধ্যে জিততে হবে বাংলাদেশকে। ২৫১ রানের লক্ষ্য দিলে জিততে হবে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে, আর ১০১ রানের লক্ষ্য দিলে ৩৭.২ ওভারের মধ্যে।
দ্বিতীয় ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৩ রানের মধ্যেই চার ব্যাটারকে হারায় তারা। এরপর সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের ৬৪ রানের জুটি ভাঙে ৩২তম ওভারে বার্লের ৩১ রানে বিদায়ের মধ্য দিয়ে। রাজা ৪৮ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন।
এরপর রশিদ খানের স্পিনে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৯ রানের ব্যবধানে শেষ ছয় উইকেট হারায় দলটি। ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে চার উইকেট নেন আফগান অধিনায়ক। ফজলহক ফারুকীও দুটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ধস ত্বরান্বিত করেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারেই ৫০ রান পূর্ণ করে আফগানিস্তান। ২৫ রান করে গুরবাজ বিদায় নিলেও জাদরানের সাথে বড় জুটি গড়েন সেদিকুল্লাহ আতাল। দুজনের ১৪০ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় আফগানরা।
ব্র্যাড ইভান্সের বলে আউট হওয়ার আগে ৯৬ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯০ রান করেন জাদরান। নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে এই নিয়ে চতুর্থবার থামতে হলো তাকে। অন্যদিকে আতাল দলীয় ২৫৯ রানে বিদায় নেওয়ার আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
তবে শেষ দিকে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়েও ধস নামে। মাত্র ৫.২ ওভারে ৩৫ রান যোগ করতেই শেষ পাঁচ ব্যাটারকে হারায় তারা। এরপরও ২৯৪ রানের সংগ্রহ জিম্বাবুয়ের জন্য অনেক বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ১৫৮ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: আফগানিস্তান ২৯৪ রান (সেদিকুল্লাহ আতাল ১০২, ইব্রাহিম জাদরান ৯০, মাসুকু ৩/৪৪, ব্র্যাড ইভান্স ৩/৪৭)। জিম্বাবুয়ে ১৩৬ রান (সিকান্দার রাজা ৪৮, রশিদ খান ৪/১৭, ফজলহক ফারুকী ২/১৫)। আফগানিস্তান জয়ী ১৫৮ রানে।



