একসময় ফ্যাটি লিভারকে মধ্যবয়সী মানুষের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন চিত্র বদলে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, যা বর্তমানে মেটাবলিক ডিসফাংশন-সম্পর্কিত স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ নামেও পরিচিত। শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না যে, লিভারে চর্বি জমছে। অথচ সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
কেন বাড়ছে ফ্যাটি লিভার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপনের পরিবর্তনই এর অন্যতম কারণ। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ-এসব মিলেই তরুণদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, পেটে চর্বি জমা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও এই রোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।
নীরবে এগোয় রোগ
ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন শরীরে থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বল লাগা, সহজে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ডান পাশের ওপরের পেটে অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অন্য কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ে লিভারে চর্বি জমেছে।
তরুণদের জন্য সতর্কবার্তা
হেপাটোলজিস্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, রাত জেগে কাজ করা, নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়া এবং মিষ্টিযুক্ত পানীয় গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে অল্প বয়সেই বিপাকজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়ছে।
কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী—
- প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা।
- কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া।
- শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত খাবার ও পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ করা।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দীর্ঘদিন ক্লান্তি, পেটে অস্বস্তি, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
চিকিৎসকদের ভাষায়, ফ্যাটি লিভার এমন একটি রোগ, যা জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই তরুণ বয়সেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা গেলে এই নীরব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ব্যস্ততার অজুহাতে নিজের শরীরকে অবহেলা না করে এখনই


