পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, মানবাধিকার, যুব ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আন্তর্জাতিকবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজ আয়োজিত এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে চ্যাথাম হাউজ ছাড়াও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে বর্তমান সরকারের প্রধান উন্নয়ন উদ্যোগ, নীতিগত অগ্রাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসব উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদার করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক কূটনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে খাদ্যনিরাপত্তা, মানবাধিকার ও যুব ক্ষমতায়নের মতো বিষয়ও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সাথে গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও দেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
চ্যাথাম হাউজের নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকটি পরিচালিত হয়। এ নিয়মের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় পাওয়া তথ্য ব্যবহার করতে পারলেও বক্তার পরিচয় বা বক্তব্যের উৎস প্রকাশ করতে পারেন না। ফলে অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা খোলামেলা ও দ্বিপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


