...|...|...

জাতীয়

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:০৬ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০২
Shares
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর আবারও কারিগরি ত্রুটিতে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং বেড়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়ছিল।

সূত্র জানায়, গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি। বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর তা ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বয়লারে সমস্যা হওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছে। এটি ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, দেশে বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে শুধু আদানির কেন্দ্রের সমস্যা নয়, জ্বালানি সংকটও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিডিবি সূত্র বলছে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি কয়লার সংকট ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রও কয়লার সংকটে সীমিত সক্ষমতায় চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবেও দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিতভাবে বন্ধ থাকছে অথবা কম সক্ষমতায় উৎপাদন করছে।