আয়না কি নিজেকে নিজে দেখতে পায়? ‘সাবানের ফেনার রঙ সবসময় সাদা হয় কেন?’ ‘স্বপ্নের ভেতর মানুষ কি কখনও নিজেকে ঘুমাতে দেখে?’ ‘ডিমের ভেতরে ছানাটি কি ভেতরে একা নিঃশ্বাস নেয়?’ প্রথম দেখায় এই প্রশ্নগুলোকে বোকা বোকা বা হাস্যকর মনে হতে পারে। তবে লোকলজ্জা বা অপদস্থ হওয়ার ভয় দূরে ঠেলে মনের ভেতরে থাকা এমন সব সহজ ও সাধারণ প্রশ্ন নির্দ্বিধায় ছুড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে এসেছে বিশেষ একটি দিন।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বোকা প্রশ্ন করার দিন’ (আস্ক আ স্টুপিড কোশ্চেন ডে)।
এই দিবসটির সূচনা হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে। সে সময় দেশটির একদল স্কুলশিক্ষক লক্ষ্য করেন, সহপাঠীদের কাছে অপমানিত বা হাসির পাত্র হওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ক্লাসে স্বাভাবিক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকে। শিক্ষার্থীদের সেই জড়তা ভাঙতে এবং তাদের মনের লুকিয়ে থাকা কৌতূহলকে উন্মুক্ত করতে শিক্ষকরা সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের একটি দিনকে ‘বোকা প্রশ্ন করার দিন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে এই দিবসের জন্য স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু হলেও বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই রীতির প্রচলন দেখা যায়।
শিক্ষাবিদ ও মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, শিক্ষার মূল ভিত্তিই হলো প্রশ্ন করা। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনও প্রশ্নের গুরুত্ব দিয়ে গেছেন। এই দিবসের মূল দর্শন হলো, কোনো প্রশ্নই আসলে বোকা প্রশ্ন নয়। মানুষ যখন প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়, তখন তার জানার পরিধিও সীমিত হয়ে পড়ে। কোনো প্রশ্নকে বোকা বলে উড়িয়ে দিলে মানুষ মানসিকভাবে আঘাত পায় এবং তার নতুন কিছু শেখার আগ্রহ হারিয়ে যায়। তাই লোকলজ্জার ভয় ভেঙে প্রশ্ন করতে শেখানোই এই দিবসের মূল সার্থকতা।
দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে মনের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি করতে এতদিন ইতস্তত করছিলেন, আজ সেটি নির্দ্বিধায় করে ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অন্য কেউ কোনো সাধারণ বা অদ্ভুত প্রশ্ন করলে তাকে উপহাস না করে বুঝিয়ে বলা বা সঠিক উত্তরটি জানতে সাহায্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


