আজ ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। বিশ্বের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা, বীজ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে যে শ্রমজীবীরা পর্দার অন্তরালে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন, তারা হলেন গ্রামীণ নারী। গ্রামীণ নারী ও মেয়েদের এই অসামান্য অবদান এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি দিতে আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, জাতিসংঘ কর্তৃক ২০২৬ সালকে ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ’ (International Year of the Woman Farmer) ঘোষণা করায় এ বছর দিবসটির গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের (UN Women) ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘‘প্রকৃতির যত্নে গ্রামীণ নারী কৃষক’’।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতির প্রসার, বীজ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় গ্রামীণ নারীদের যে অনবদ্য নেতৃত্ব, এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস কী?
সহজ কথায়, গ্রামীণ জনপদে বসবাসকারী নারীদের মানবাধিকার রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনে তাদের ভূমিকা উদযাপন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের কাজের অধিকার ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারই হলো আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক উৎপাদন নারী কৃষকদের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও তারা প্রায়শই ভূমি ও সম্পদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এই বৈষম্য দূর করাই দিবসের মূল লক্ষ্য।
দিবসের পটভূমি ও ইতিহাস
গ্রামীণ নারী দিবসের ধারণাটি প্রথম উঠে আসে ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নারী সংগঠনগুলো গ্রামীণ নারীদের অবদানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য করার প্রস্তাব করে, যা শুরুতে ‘বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস’ হিসেবে বেসরকারিভাবে উদযাপিত হতো।
পরবর্তীতে, ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অফিসিয়ালি এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং ঘোষণা করা হয় যে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি পালন করা হবে।
বিশ্ব ও বাংলাদেশে কবে থেকে পালন করা হয়?
জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রথম সরকারি মর্যাদায় ‘আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস’ পালন শুরু হয়।
বাংলাদেশেও ২০০৮ সাল থেকেই দিবসটি নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে (যেমন কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও উপকূলীয় জেলাসমূহে) উবিনীগ, বারসিকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মেলা, বীজ প্রদর্শনী ও সফল নারী চাষীদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা এখন শুধু মাঠের কর্মী নন, বরং সফল কৃষি-উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছেন।


