আজ ১৫ অক্টোবর, বিশ্ব ছাত্র দিবস। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের জন্মবার্ষিকী স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। তিনি বলতেন, ‘স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন সেটাই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।’ শিক্ষার্থীদের প্রতি তার এই চিরন্তন বাণী ও অগাধ বিশ্বাসকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিবসের পথচলা।
ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম কেবল একজন বিজ্ঞানী বা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিলিয়ে গেছেন। ২০১০ সালে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তার ৭৯তম জন্মবার্ষিকীকে ‘বিশ্ব ছাত্র দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে ছাত্রদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তার জীবনই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
একটি দেশের মেরুদণ্ড হলো তার তরুণ প্রজন্ম, আর এই প্রজন্মের চালিকাশক্তি হলো ছাত্রসমাজ। এই দিবসটির অপরিহার্যতা এখানেই যে, এটি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে তারা কেবল শিক্ষার আলো গ্রহণকারী নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর।
মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের মেধা ও সৃজনশীলতাকে দেশের কাজে লাগানোর তাগিদ দেয় এই দিনটি। এছাড়া যেকোনো সংকট বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগায় বিশ্ব ছাত্র দিবস।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর বড় বড় পরিবর্তন ও বিপ্লবের সূচনা হয়েছে ছাত্রদের হাত ধরেই।
১. সামাজিক সচেতনতা: জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার রক্ষা, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা ছড়াতে ছাত্ররাই সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
২. জাতীয় সংকট ও বিপ্লব: ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যেকোনো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে বড় বড় সংস্কার সবখানেই ছাত্ররা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি: বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে নতুন নতুন স্টার্ট-আপ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মস্তিষ্ক।


