...|...|...

রাজনীতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

আওয়ামী লীগ অপরাধমূলক সংগঠন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৪৪
Shares
আওয়ামী লীগ অপরাধমূলক সংগঠন

ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশব্যাপী নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে এসব আক্রমণ চালানো হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে।

 বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ দলের চার নেতার বিরুদ্ধে দেয়া রায়ে এ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। 

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আসামিদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। চার আসামিই পলাতক।

রায়ের পঞ্চম অভিযোগে ‘অভিন্ন অভিপ্রায় ও অপরাধমূলক সংগঠন’ প্রসঙ্গে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলীয় জোট দেশব্যাপী সম্মিলিতভাবে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত হামলা চালায়। এসব হামলা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, হানিফসহ আসামিরা ওই সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে জেনেশুনে ও ইচ্ছাকৃতভাবে নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ) ও ৪(১) ধারার অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ও পৃথকভাবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, উসকানি, অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণে অংশগ্রহণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এ অভিযোগে আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারার অধীনে পড়ে এবং ২০(২) ও ২০এ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, মামলার পঞ্চম অভিযোগে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা অভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য এবং অপরাধমূলক সংগঠনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিল, দেশব্যাপী ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ ছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোট এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং চার আসামিকেই এ অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, রায়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে।