...|...|...

খেলা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

টাইমস টুডে স্পোর্টস
প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৫৩ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:০০
Shares
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

শ্বাসরুদ্ধকর এক লো-স্কোরিং ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান। লাহোরে সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে অজিদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ১৫৭ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ১১২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। তবে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে শাদাব খানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। আর তাতেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল পাকিস্তান।

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বোলিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে পাকিস্তানের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে পাকিস্তানের মাটিতে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জায় পড়ে সফরকারীরা।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে অজি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি। এরপর অধিনায়ক জশ ইংলিস ও মারনাস লাবুশেন ৪৬ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ১৯ রান করা লাবুশেন রানআউটের ফাঁদে পড়লে এই জুটি ভাঙে। তৃতীয় উইকেটে অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৫২ রান যোগ করেন ইংলিস।

একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৮ রান। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ৩৯ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে বসে আরও ৬টি উইকেট! মূলত দলীয় ১১৯ রানে ওপেনিংয়ে নামা ইংলিস ৬৫ রান করে আফ্রিদির শিকার হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫৭ রানেই অলআউট হয় অজিরা। পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন আফ্রিদি নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া আবরার আহমেদ ও শাদাব খান শিকার করেন ২টি করে উইকেট।

১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও ভালো ছিল না। দলীয় মাত্র ২৭ রানে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বাবর আজম। কিন্তু মধ্যভাগের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান।

সবুজ শিবিরের যখন চরম বিপর্যয়, তখন হাল ধরেন অলরাউন্ডার শাদাব খান ও তরুণ আবদুল সামাদ। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের এক ম্যাচজয়ী জুটি। শাদাবের উইনিং ২৯ রানের ইনিংস এবং সামাদের অপরাজিত ১৮ রানের ওপর ভর করে ৪১.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

বোলারদের অনবদ্য নৈপুণ্য আর শেষ দিকে ব্যাটারদের স্নায়ুচাপ ধরে রাখার এই দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক এক সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতল পাকিস্তান ক্রিকেট দল।