সড়ক অবরোধ ও সংঘাতের ঘটনায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র। বন্ধ রয়েছে সাজেক সড়কে যান চলাচল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় উজোবাজার এলাকায় ঘটে গোলাগুলির ঘটনা। এদিকে অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিরাজ করছে আতঙ্ক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন।
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর পর্যটকদের কোলাহল—সব মিলিয়ে সাজেকের চিরচেনা দৃশ্য এখন বদলে গেছে। পর্যটকশূন্য পর্যটনকেন্দ্রে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট-মাচালং-উজোবাজার এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
বৃহস্পতিবার সকালে সাজেকে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পথে উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে পর্যটকদের গাড়িবহর। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। পরে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছয় সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। তবে গোলাগুলিতে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাজেকের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সড়ক ও নৌপথে অর্ধদিবস অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে দুই পার্বত্য জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয়দের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন কাজ করছে।
সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা।


