মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ গত ১২ ঘণ্টায় শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সর্বোচ্চ তীব্রতা অর্জন করতে পারে। এরপর বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
আমেরিকার নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের (জেটিডব্লিউসি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার সকালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচোয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গবেষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির চারপাশে বাতাসের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়াসহ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়টির চারপাশে প্রায় ২৮ ফুট উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বায়ুচাপের সর্বনিম্ন মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯৭২ মিলিবার।
ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জিপিএম এবং জাপানের হিমাওয়ারি-৯ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্র বিশ্লেষণে ঘূর্ণিঝড়টির আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়টি অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ নিতে পারে। এ পর্যায়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ থেকে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। দমকা হাওয়াসহ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
গবেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টার পর থেকে রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বর্তমানে খুবই বিক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।



