নির্মাণকাজ শেষ হলেও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার পাইপলাইন চুরি হয়ে যাওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যার সম্প্রসারিত ভবন। এতে পুরোনো ভবনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শয্যা সংকটে মেঝে ও বারান্দায় থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
জেলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। রোগীদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিতে ১৫০ শয্যার সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার তামার পাইপলাইন চুরি হয়ে যাওয়ায় ভবনটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তদারকি ও নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা দেয়। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা নতুন ভবনে ঢুকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার শত শত ফুট তামার পাইপলাইন কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া পাইপলাইনের মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় পুরোনো ভবনেই রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় অনেককে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর সাথে চিকিৎসক ও প্যাথলজি টেকনিশিয়ানের সংকট যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশাদ হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের পাইপলাইন চুরি হয়ে যাওয়ায় নতুন ভবনটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইপলাইন পুনঃস্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে ভবনটি রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সম্প্রসারিত ভবনটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে হাসপাতালের ওপর রোগীদের অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।


