...|...|...

রংপুর

৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১২
Shares
৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আসাদুল হকের লাশ প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আহত অপর দুজন হলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরকেও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আসাদুলের মৃত্যু হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক রাধা রানী হালদার ঠাকুর ও ভাস্কর রায়ের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তারা বিএসএফ ও কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশের বরাতে গণমাধ্যমেকে জানান, শনিবার ভোরে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকায় ৬-৭ জন বাংলাদেশি মই দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে তাদের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসাদুল হককে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দুই সাংবাদিক আরও জানান, শনিবার কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশ আসাদুল হকের লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আহত দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফেয়ারনেস ২০২৫-এর ২১ ধারায় মামলা করা হয়। তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আসাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রবিবার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান এবং বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে আসাদুল হকের লাশ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ লাশ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিহতের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ ও আলোচনা করেছি। তারা প্রক্রিয়া শেষ করে রবিবার ১০ টার দিকে আসাদুলের লাশ ফেরত দেয়।