সময় বয়ে চলে আপন গতিতে। সেই স্রোতে হারিয়ে যায় অনেক ঘটনা, আবার কিছু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী জায়গা করে নেয়। আবিষ্কার, রাজনৈতিক পালাবদল, যুদ্ধ, বিপ্লব কিংবা শোকাবহ দুর্ঘটনা-বিভিন্ন কারণে ক্যালেন্ডারের কিছু দিন হয়ে ওঠে তাৎপর্যপূর্ণ। তেমনই একটি দিন ১৫ অক্টোবর। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই দিনে ঘটেছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে আজও।
চলুন, ইতিহাসের আলোকে দেখে নেওয়া যাক ১৫ অক্টোবরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো।
ইতিহাসে ১৫ অক্টোবর
১৫৮২: ইতালি ও স্পেনে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু হয়। ক্যালেন্ডার সংস্কারের ফলে ওই দেশগুলোতে ৪ অক্টোবরের পর সরাসরি ১৫ অক্টোবর তারিখ আসে।
১৬৭৬: ব্রিটিশ রাজার কাছ থেকে ভারতে মুদ্রা তৈরির অনুমতি পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৮১৫: ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত জীবন শুরু হয়।
১৮৯৪: ফরাসি সেনাবাহিনীর ইহুদি কর্মকর্তা আলফ্রেড ড্রেফুসের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচার শুরু হয়। পরে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনা ফ্রান্সে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
১৯১৭: জার্মানির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ডাচ নৃত্যশিল্পী মাতা হারিকে ফ্রান্সে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়।
১৯৪৫: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে লাভালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৯৪৬: ন্যুরেমবার্গে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর ফিল্ড মার্শাল হারমান গোয়েরিংয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আত্মহত্যা করেন।
১৯৬৪: চীন প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়।
১৯৬৯: সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদিরশিদ আলী শেরমারকে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
১৯৮৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩৯ জন শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথি প্রাণ হারান। নিহতদের স্মরণে দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
১৯৮৫: সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কর্মসূচি ‘পেরেস্ত্রইকা’ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। এর মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ব্যবস্থার পুনর্গঠন।
১৯৮৬: বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হন।
১৯৯৩: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
২০০৮: সুইডেনের স্টকহোমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিংয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
ইতিহাসের প্রতিটি দিনই অতীতের কোনো না কোনো অধ্যায়ের সাক্ষী। ১৫ অক্টোবরের ঘটনাগুলোও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়ের সাথে পৃথিবী বদলালেও অতীতের অর্জন, সংগ্রাম ও বেদনাদায়ক স্মৃতিগুলো ভবিষ্যৎকে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া


