মহাকাশের বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব, চাঁদের ছায়ায় সাময়িকভাবে পুরোপুরি আড়াল হয়ে যাবে সূর্য।
আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন একটি বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট) চাঁদের ছায়া আর্কটিক অঞ্চল থেকে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, যার ফলে সর্বোচ্চ দুই মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্য সম্পূর্ণ ঢাকা পড়বে।
সাধারণত সূর্যগ্রহণের পথ পূর্ব-পশ্চিমমুখী হলেও এবারের গ্রহণটি একটু ভিন্ন। এটি উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে এগোবে- শুরু হবে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার জনমানবহীন তাইমির উপদ্বীপ থেকে, যেখানে গ্রীষ্মকালে আর্কটিক বৃত্তের ওপরে সূর্য প্রায় অস্তই যায় না।
সেখান থেকে দ্রুত রাশিয়া ছেড়ে গ্রিনল্যান্ডের বরফাচ্ছাদিত পূর্বাঞ্চল, আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল এবং সবশেষে স্পেন ও পর্তুগালের একাংশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে চাঁদের ছায়া।
পূর্ণগ্রাস দেখতে হলে থাকতে হবে প্রায় ১৮০ মাইল প্রশস্ত এক বিশেষ পথের মধ্যে। স্পেনে এই পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৯০ কিলোমিটারে।
মূল ভূখণ্ড ইউরোপে ১৯৯৯ সালের পর এটাই হবে প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যেখানে মূলত স্পেনে বসবাসকারী প্রায় দেড় কোটি মানুষ পূর্ণগ্রাসের পথে অবস্থান করবেন। স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিট নাগাদ (জিএমটি সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট) পূর্ণগ্রাস শুরু হবে।
বিশেষভাবে উত্তর ও পূর্ব স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল ও ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরগুলো থাকবে পূর্ণগ্রাসের সরাসরি পথে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এই বলয়ের বাইরে থাকলেও সেখান থেকেও সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়তে দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাসের বাইরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ- অর্থাৎ প্রতি আটজনে একজন- এই সূর্যগ্রহণ অন্তত আংশিকভাবে হলেও উপভোগ করতে পারবেন।
ইউরোপের বড় শহরগুলোর মধ্যে প্যারিসে প্রায় ৯২ শতাংশ, লন্ডনে ৯১ শতাংশ এবং বার্লিনে ৮৫ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়বে বলে জানা গেছে। পূর্ব দিকের শহরগুলোতে ও উত্তর আফ্রিকায় গ্রহণ পূর্ণতা পাওয়ার আগেই সূর্যাস্ত হয়ে যাবে- আলজিয়ার্সে প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং কাসাব্লাঙ্কায় ৮৭ শতাংশ ঢাকা অবস্থাতেই সূর্য অস্ত যাবে।
আটলান্টিকের অপর প্রান্তে উত্তর আমেরিকায় সকাল বা বিকেলে গ্রহণ ঘটায় সূর্যাস্তের সমস্যা না থাকলেও মূল পথ থেকে দূরে থাকায় তুলনামূলক কম গ্রাস দেখা যাবে- কানাডার সেন্ট জনসে ৫৩ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত।
কেন ঘটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্য ও চাঁদের আকার প্রায় সমান মনে হয় বলেই এমন পূর্ণগ্রাস সম্ভব হয়। প্রতি বছর বিশ্বে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ঘটলেও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলক বিরল- গড়ে শতাব্দীতে ৬৬ বার বা প্রায় দেড় বছরে একবার ঘটে থাকে।
এই গ্রহণের পরের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট, যা দেখা যাবে স্পেন, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এরপর ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকা, পর্তুগাল ও স্পেন থেকে দেখা যাবে একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণগ্রাসের সময় ছাড়া বাকি সব পর্যায়ে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকানো বিপজ্জনক- চোখের স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে অবশ্যই বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা বা ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।

