মৌসুমের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির জয়যাত্রা থামিয়ে দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। নিজেদের মাঠ ইতিহাদে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ফরাসি ক্লাবটির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে সিটি। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের পরও হার এড়াতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। এই পরাজয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের মুখ দেখেছে তারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতের ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল করে সিটিকে চাপে ফেলে পিএসজি। বিরতির পর একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকেরা। ইতিহাদে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। মে মাসে ক্লাব ছাড়ার পর এই প্রথম তিনি সাবেক দলের মাঠে ফিরেছিলেন। তার সামনেই পিএসজির কাছে বড় ব্যবধানে হারল সিটি।
পিএসজির আক্রমণাত্মক ফুটবলের শুরুটা হয় ১৩ মিনিটে। দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এর মাত্র দুই মিনিট পর দুয়ের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে।
শুরুতেই দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে সিটি। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আরেকটি গোল খেতে হয় তাদের। ৩২ মিনিটে ম্যাগনেস আকালিউশ ও ওয়ারেন জাইরে এমেরির সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণের শেষটা করেন ভিতিনিয়া। তার গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন আনেন সিটি কোচ এনজো মারেসকা। এরপর আক্রমণে গতি বাড়িয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটের মাথায় ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হালান্ড। ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েন হালান্ড। ৪১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭। এর আগে সিটির হয়ে ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। একই সাথে প্রতিযোগিতাটিতে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন হলান্ড। এ ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির চেয়ে ২০ ম্যাচ কম খেলতে হয়েছে তাকে। মেসি ৮০ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
হালান্ডের গোলে সিটি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখলেও ৬২ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। আকালিউশের শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা। তবে ফিরতি বল শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়। এতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
এরপরও লড়াই চালিয়ে যায় সিটি। হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান। আরও একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি, কিন্তু পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ দারুণ দক্ষতায় তার শট ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পিএসজিও। পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও ফেরান তোরেসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পিএসজি।
ম্যাচটি সিটির জন্য ছিল একাধিক কারণে হতাশার। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের মাঠে এটিই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি এবং নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে আসছে। গ্যালারিতে প্রিমিয়ার লিগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমর্থকদের প্রতিবাদও ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে পিএসজির আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি সিটি। অন্যদিকে, সাবেক কোচ গার্দিওলার উপস্থিতিতে ইতিহাদে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি।



