দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের যে অনুমোদন দিয়েছিলেন তা চার সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এর ফলে মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচন হবে না। চার সপ্তাহ পর যে কোনো দিন শাকসু নির্বাচন হতে পারে।
এর আগে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ ৩ শিক্ষার্থী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। এ অবস্থায় শাকসু নির্বাচন হতে দেওয়া আইনসংগত নয়।
১৯৯৭ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। সবশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আসায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মাঝে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থগিতাদেশের আগে নির্বাচন কমিশন যে প্রস্তুতি নিয়েছিল:
ভোটের সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মোট ভোটার: ৯ হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থী। ভোটকেন্দ্র ও বুথ: ৬টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি বুথ। প্রার্থী সংখ্যা: কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩ পদের জন্য ৯৭ জন এবং হল সংসদে ৮৪ জন।
নির্বাচনে মূলত তিনটি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল: ১. দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য (শিবির সমর্থিত): ২৩টি পদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির। ২. সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য (ছাত্রদল সমর্থিত): ২২টি পদে প্রার্থী। ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ। ৩. সাধারণের ঐক্যস্বর (বাম সমর্থিত): ১৩টি পদে প্রার্থী। ভিপি প্রার্থী মুহুয়ী শারদ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ জানিয়েছিলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এমনকি প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের নির্দেশের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

