ফের বিতর্কে জড়ালেন টালিউড অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। ছবি নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এর আগেও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এবার প্রায় একই ধরনের অভিযোগে আবারও আইনি জটিলতায় পড়লেন তিনি।
এবার সিনেমা নির্মাণের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৬৮ লাখ রুপি আত্মসাৎ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে সোহমের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার(২৮ জুলাই) রাতে পশ্চিমবঙ্গের চারু মার্কেট থানায় এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হুগলির আরামবাগের বাসিন্দা শেখ শাহিদ ইমাম।
অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে একটি সিনেমা নির্মাণের জন্য তার কাছ থেকে ৬৮ লাখ রুপি নেন সোহম। পরে সিনেমাটি মুক্তি পেয়ে ব্যবসায়িকভাবে সফলও হয়। কিন্তু সিনেমা সফল হওয়া সত্ত্বেও লভ্যাংশ তো দূরের কথা, মূল বিনিয়োগের টাকাও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ শাহিদের। উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গেলেই নানা টালবাহানার মুখে পড়তে হয় তাকে।
লিখিত অভিযোগের বাইরে পুলিশের কাছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। তার ভাষ্যমতে, কলকাতার সাউথ সিটি মলের পার্কিং এলাকায় সোহমের এক সহযোগীর মুখোমুখি হয়ে বকেয়া টাকা ফেরত চাইতেই সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় তাকে। এমনকি সোহম তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিধায়ক হওয়ায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপদে ফেলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপর সরাসরি সোহমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শাহিদ। তার দাবি, সিনেমার স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়া সত্ত্বেও তাকে একটি টাকাও দেননি সোহম।
সোহমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুন মাসেই সোয়া এক কোটি রুপি প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সেবারও সিনেমা না বানিয়ে টাকা আত্মসাৎ এবং ‘বিধায়ক’ পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এর আগে নিউ টাউনের এক রেস্টুরেন্ট মালিকের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেতা।


