স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বক্তব্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে
বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা
প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন
করা হয়নি। সাদ্দামের পরিবারের মৌখিক অভিপ্রায় অনুযায়ী যশোর জেলগেটে স্ত্রী ও সন্তানের
লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর
কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে
যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন
করা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করে, বিভিন্ন গণমাধ্যম
সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রাখবে।
তবে সাদ্দামের মামা হেমায়েত হোসেন বলেন, আমি আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসন
থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু যশোর জেলে তাই আমাদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। পরে
বাগেরহাটের জেল সুপারের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, আমাদের কোনো সুযোগ নেই, আপনারা
যশোরে মরদেহ নিয়ে দেখা করিয়ে আসেন। পরে আমরা যশোরে দেখা করিয়েছে। সেখানেও মাত্র ৪-৫
মিনিট সময় দিয়েছে মাত্র।
তিনি আরও বলেন, যদি জেলা প্রশাসন ও কারাগার থেকে যদি আমাদের বলা হতো
যশোরে আবেদন করেন তাহলে আমরা যশোরে আবেদন করতাম। কিন্তু আমাদের কেউ জানায়নি, যে যশোরে
আবেদন করলে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।
প্যারোলের বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, 'প্যারোলের
একটি আবেদন নিয়ে আসছিল। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেহেতু সে আছে যশোরের কারাগারে,
আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে। তবে প্যারোলের
ক্ষেত্রে মুক্তি পেলেন শুধু মাত্র ওই জেলার মধ্যে তার প্যারোলের হুকুমটা কার্যকর হবে।
এখানকার প্রশাসন তাদের বিষয়ে যশোর জেলা কারাগারেও বলে দিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের
সাথেও কথা বলেছিল, যেন সুন্দর ভাবে, সঠিকভাবে তাদের মৃত স্বজনের লাশ দেখতে পারে। আমরা
তাদের সেখানে যাওয়া এবং দেখার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি।'

