...|...|...

জাতীয়

সরকার জাতীয় ঐক্য চায়, কিন্তু একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১৩
Shares
সরকার জাতীয় ঐক্য চায়, কিন্তু একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন একটি নির্দিষ্ট মহল পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও কোনো বিশেষ বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পবিত্র সংসদে তুলে ধরা উচিত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহানবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘এসব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হয়ে এগিয়ে চলেছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেন সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আগামী দিনের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে পারলেই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে। এ জন্য সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন অপরিহার্য।’

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের সুষম উন্নয়নের জন্য দুই সপ্তাহ আগে একটি সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো (ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি) নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্যও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে দেশের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পাশাপাশি একটি বিশেষ মহলের বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি মহল স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রয়াস দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা কারোরই কাম্য নয়।’