অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে সমালোচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ‘সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-রাষ্ট্রদূত জন এফ ড্যানিলোভিচ।
একইসাথে বাংলাদেশকে অতীতের নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে ভিন্ন ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সাবেক এই প্রভাবশালী মার্কিন কূটনীতিক এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এক্স পোস্টে জন এফ ড্যানিলোভিচ উল্লেখ করেন, ‘ইশরাক হোসেনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পর তার পদত্যাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি সর্বশেষ এমন একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা প্রমাণ করে নিজ সরকারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে তারেক রহমান আন্তরিক। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে অতীতের চেয়ে ভিন্ন পথে এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জন এফ ড্যানিলোভিচ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর এবং পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) বা উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো হিসেবে ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে যুক্ত রয়েছেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ইশরাক হোসেনের একটি ব্যক্তিগত মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। ওই দিন তার ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তার দেহরক্ষীরা এক তরুণকে লাথি মারেন এবং একজনকে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়।
একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি অস্ত্র হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযানে অংশ নেওয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে আইনের কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Bangladesh PM Tarique made the right call in asking for the resignation of Ishraque Hossain after his insane stunt. This is the latest sign that Tarique is serious about holding member of his government accountable for their actions. His leadership is critical in ensuring Bangladesh’s future is different than its past.
— Jon Danilowicz (@JonFDanilowicz) October 19, 2026

