...|...|...

বিশ্ব

রাশিয়া জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করলে পাল্টা হামলা থামাবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:২২
Shares
রাশিয়া জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করলে পাল্টা হামলা থামাবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে দেশটির তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা হামলা থামাতে প্রস্তুত কিয়েভ। রবিবার (১১ অক্টোবর) এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এ ধরনের সমঝোতার ক্ষেত্রে কার্যকর ও বাস্তব নিশ্চয়তা থাকতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে  এ তথ্য জানিয়েছে।

জেলেনস্কির এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে একতরফাভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ হাতছাড়া করার অভিযোগ করেন।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি জবাব না দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপে যুদ্ধের জন্য রাশিয়াই দায়ী। তাঁর মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা সম্ভব হলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তা করতে চান না।

ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জেলেনস্কি বলেন, সংঘাত প্রশমনের পারস্পরিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই কেবল রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করবে কিয়েভ। এর জন্য মস্কোকেও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণারও সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের চুক্তি ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা সীমিত। কারণ, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ঝুঁকি কমলেও চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানির তুলনায় কম।

চুক্তির সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাও। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি ডন বেকন বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় এখন।

জেলেনস্কিকে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের নতুন নেতা খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিয়েভের বাসিন্দারা।

৪০ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সাবিনা বলেন, যুদ্ধের সময় ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই দেশটির কী করা উচিত, তা বলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মনে করেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্যকে মিত্রদের পক্ষ থেকে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বলেও অভিহিত করেন সাবিনা।

ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় বর্তমানে নির্বাচন আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদসহ অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সোমবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।