সেশনজট নিরসন, কারিকুলাম প্রণয়নে বিলম্ব, ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের অফিস রুম ও সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিভাগের সামনে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে কর্মসূচি পালন করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্লাসের সময়সূচিতে অসামঞ্জস্য এবং উপস্থিতি গণনায় পরিবর্তনের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর প্রতিবাদে নির্ধারিত পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, দীর্ঘ সেশনজট, কারিকুলাম প্রস্তুতে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, অনার্স শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর লেগেছে, এরপর কারিকুলাম না থাকায় মাস্টার্স শুরু হতেও ছয় মাস দেরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্লাস অনিয়মিতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং একটি ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ৬০ শতাংশ উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানান তিনি।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবর বলেন, করোনাপরবর্তী একাডেমিক জট ও বিভাগীয় অব্যবস্থাপনার কারণে অনার্স ও মাস্টার্স কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে গেছে। মাস্টার্সের ক্লাস দেরিতে শুরু হওয়া এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া অতিরিক্ত উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিসকলেজিয়েট হয়েছেন।
তিনি বলেন, একটার জায়গায় দুই-তিনটি উপস্থিতি গণনা করায় অনেকের উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
একই সেশনের শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই বছর দেরিতে তাদের স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে এবং ফল প্রকাশেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের বিলম্ব তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ক্লাসের সময়সূচির অসংগতি এবং একই ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি গণনার কারণে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। একটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ক্লাসে দুইটা, তিনটা, চারটা উপস্থিতি দেওয়া হচ্ছে। গত ছয়-সাড়ে ছয় বছর যে অবিচার হয়েছে তখন বিধি কোথায় ছিল? এখন এসে শুধু নিয়ম দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না এবং বিভাগ সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করেছে।
তিনি বলেন, আজকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। শিক্ষার্থীরা জানায়, যারা পরীক্ষা দিতে পারছে না তাদের ছাড়া তারাও পরীক্ষা দেবে না। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

