...|...|...

বিশ্ব

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে সহকর্মীর ছুরিকাঘাত

মোদির সাথে ফোনালাপে রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ভারতীয় পাইলট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:২৯ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪
Shares
মোদির সাথে ফোনালাপে রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ভারতীয় পাইলট

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই থেকে তেলআবীভগামী একটি ফ্লাইটে কো-পাইলটের অতর্কিত ছুরিকাঘাত এবং বিমানটি ছিনতাই ও বিধ্বস্ত করার চেষ্টার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। রক্তাক্ত অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ককপিটের দরজা খুলে ফেলায় যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) আবুধাবির একটি হাসপাতালের বিছানা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ভিডিও কলে কথা বলার সময় এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার।

প্রধানমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ওই ভিডিওতে মাচ্ছার জানান, ককপিটের মেঝেতে যখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন, তখন বুঝতে পেরেছিলেন যে বিমানটি নিচের দিকে খাদের কিনারে বা ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে।

আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ১৭ বছরের এভিয়েশন অভিজ্ঞতা, যার মধ্যে ১১ বছরই ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি মোদিকে জানান, ওই জখম অবস্থাতেও তার অভিজ্ঞতা তাকে পরিস্থিতি অনুধাবন করতে সাহায্য করেছিল। তিনি বলেন, আমার শরীরে এতটাই আঘাত লেগেছিল যে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। সে সময় আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে বিমানটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। আমি জানতাম এটিই শেষ চেষ্টা, আর দরজাটি ঠিক সেখানেই ছিল।

তিনি আরও বলেন, এমনকি তখনও আমাকে আঘাত করা হচ্ছিল, কিন্তু আমি কোনোমতে দরজাটা খুলে দিই এবং সবাই ভেতরে চলে আসে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে এই আবেগঘন আলাপচারিতার সময় মাচ্ছার জানান, ওই চরম বিপদের মুহূর্তে তিনি মনে মনে হিন্দু ভক্তিমূলক প্রার্থনা জপ করছিলেন। গুজরাট রাজ্যের এই সন্তান মোদিকে বলেন, আমি জানি ঈশ্বর নিজেই আমাকে বাঁচিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনায় বীরত্বের পরিচয় দেওয়ায় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, মাচ্ছারের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে এবং বিশ্ব দরবারে ভারতীয় পাইলটদের সম্মান ও সুনাম উজ্জ্বল করেছে।

মাচ্ছার জানান, তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় যাত্রীরা ও ক্রুরা মিলে ওই কো-পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন। এরপর ফ্লাইদুবাইয়ের অপর দুই পাইলটের একটি দল বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে সেটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান।

উল্লেখ্য, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন আরোহী ছিলেন। বিমানটি আকস্মিকভাবে প্রায় ১৭ হাজার ফুট (৫,১৮০ মিটার) নিচে নেমে গিয়েছিল, পরে অবশ্য সেটিকে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টর উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস এই ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত কো-পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী প্রভাবে’ প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে তিনি ‘আত্মঘাতী’ হতে চেয়েছিলেন।