...|...|...

চট্টগ্রাম

মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দেড় হাজার মুরগি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:২৭ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:১৪
Shares
মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দেড় হাজার মুরগি

মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দেড় হাজার মুরগি। ছবি: টাইমস টুডে

মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মুহূর্তেই তলিয়ে গেল খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ইয়াসমিন আক্তারের দুই মুরগির খামার। পানির স্রোতে মারা গেছে প্রায় দেড় হাজার মুরগি। ভেসে গেছে মুরগির খাদ্য ও খামারের বিভিন্ন সরঞ্জাম। এক রাতেই প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খামার করে আসা এই নারী উদ্যোক্তা।

ইয়াসমিন আক্তার উপজেলার জামতলী সুধীর মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে মুরগির খামার করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। ঋণ ও এনজিওর আর্থিক সহায়তা নিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন দুটি খামার। খামার দুটিই ছিল তার পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু শুক্রবার রাতে মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি তার সেই দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে মুহূর্তেই বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। নিম্নাঞ্চল দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে পড়ে ইয়াসমিনের খামার দুটিতে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানিতে তলিয়ে যায় খামারের মেঝে ও আশপাশের এলাকা। পানির তোড়ে খামারের মুরগি, খাদ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেসে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে খামারের ভেতর ও আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় অসংখ্য মৃত মুরগি।

ইয়াসমিন আক্তার বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে মুরগির খামার করছি। এর আগে কখনো এমন ক্ষতির মুখে পড়িনি। ঋণ ও এনজিওর সহায়তায় অনেক কষ্টে খামার দুটি গড়ে তুলেছিলাম। এক রাতের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ৫০০ মুরগি মারা গেছে। পাশাপাশি মুরগির খাদ্য ও খামারের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে তার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ইয়াসমিনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন শুধু খামার হারানোর নয়, ঋণের বোঝা নিয়েও।

দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন পরিবারের আয় থমকে গেছে, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবেন- তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

ইয়াসমিন বলেন, এখন কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করব, কীভাবে আবার খামার শুরু করব- কিছুই বুঝতে পারছি না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

হঠাৎ এই বিপর্যয়ে ইয়াসমিনের পরিবার এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তার দাবি, ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসন সুবিধা দেওয়া হলে আবারও খামারটি দাঁড় করাতে পারবেন তিনি।

এক রাতের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শুধু দেড় হাজার মুরগি নয়, পানিতে ভেসে গেছে একজন নারী উদ্যোক্তার ১২ বছরের শ্রম, বিনিয়োগ ও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও। এখন সেই স্বপ্ন পুনর্গঠনে সহায়তার অপেক্ষায় ইয়াসমিন।