...|...|...

বিশ্ব

ফ্লাইদুবাই বিমান হামলা

ভারতীয় পাইলটকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন দুবাই যুবরাজ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৪২
Shares
ভারতীয় পাইলটকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন দুবাই যুবরাজ

ছবি: সংগৃহীত

সহকর্মীর কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বীর পাইলট ও ১৭২ জনের জীবন রক্ষাকারী স্মিত মাচ্ছারকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।

মধ্য আকাশে কো-পাইলটের সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েও চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়া এবং ১৭২ জন যাত্রী ও ক্রুর প্রাণ বাঁচানোর এই ভারতীয় পাইলট বিশ্বজুড়ে এখন প্রশংসায় ভাসছেন। হাসপাতালে তাকে দেখে আসার পর যুবরাজ হামদান তার প্রতি পূর্ণ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুবরাজ লেখেন, আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার প্রতি রয়েছে আমাদের পূর্ণ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ... আমাদের দেশের গল্পের অংশ... এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যা প্রতিনিধিত্ব করে তার অংশ—একটি দয়ার জাতি... একটি শান্তির জাতির... এবং একটি জীবনের জাতি।

প্রকাশিত ছবিতে যুবরাজকে পাইলট মাচ্ছারের সাথে কথা বলতে এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে দেখা গেছে।

যেভাবে ঘটেছিল লোমহর্ষক ঘটনা

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে তেলআবীভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার। আর তার কো-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি। ফ্লাইট চলাকালীন হঠাৎ করেই কো-পাইলট বিমানটি ক্র্যাশ বা বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ককপিটের ক্র্যাশ এক্স বা কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিমানটি কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার ফুট নিচে নেমে পড়ে এবং প্রায় বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু সব প্রতিকূলতা জয় করে অসাধারণ উপস্থিতি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সতর্ক করে দেন। তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীরা ছুটে এসে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন। পরবর্তীতে অফ-ডিউটি বা ছুটির দিনে ভ্রমণকারী অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

এই বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ইতোমধ্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তদন্ত ও হামলাকারীর পরিচয়

বিমানটি বিধ্বস্ত করার এই চেষ্টার পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উগ্রবাদী মতাদর্শের সাথে জড়িত থাকার আশঙ্কায় হাম্মাম আল-হাম্মামিকে এর আগে ওমানে বিমান চালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্য জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে ঘটনার তদন্তের নেতৃত্বদানকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি ওমানি বাবা ও সিরিয়ান মায়ের ঘরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই জন্মগ্রহণ করেন এবং তার জীবনের বেশ কিছুটা সময় ইউএই-তেই কাটিয়েছেন।