...|...|...

খেলা

ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় চমক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৯
Shares
ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় চমক

ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনায় জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে পুরস্কারের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কারের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকের পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে উঠে আসছে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নাম।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রকাশিত পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। তার পরেই আছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। তালিকায় পাঁচ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি।

১. হ্যারি কেইন

র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা হ্যারি কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তার গোল ৬১টি। তার পারফরম্যান্সে বায়ার্ন মিউনিখ লিগ ও কাপ জিতেছে।

বিশ্বকাপেও কেইনের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। টুর্নামেন্টে ছয় গোল করে ইংল্যান্ডের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক গোল করার কারণে পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে তাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। যদিও দলগতভাবে মৌসুমটি তার ক্লাবের জন্য শিরোপাহীন ছিল।

তবে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন এমবাপ্পে। ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসা ও লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

৩. লামিন ইয়ামাল

তৃতীয় স্থানে বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়া এই তরুণ তারকা এবারও অন্যতম আলোচিত প্রার্থী।

ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে দুটিতেই শিরোপা জেতা প্রথম ২০ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থাকলেও টুর্নামেন্টে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল ও ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নতুন মৌসুমেও দুর্দান্ত শুরু করেছেন—সাত ম্যাচে করেছেন আট গোল।

৪. রদ্রি

চতুর্থ অবস্থানে আছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন বল।

তবে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে চোটের কারণে নিজের সেরা ছন্দে ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারেননি রদ্রি। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে তার সময় লেগেছে।

৫. লিওনেল মেসি

পঞ্চম স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। টুর্নামেন্টে আট গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে গোলের তালিকায় শীর্ষেও ছিলেন মেসি। পরে এমবাপ্পে তাকে ছাড়িয়ে যান। ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা হেরে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল আলোচনায়।

ইন্টার মায়ামিকে ক্যাম্পেওনেস কাপ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া মেসির সামনে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এটিকে শেষ বড় সুযোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৬. আর্লিং হালান্ড

ষষ্ঠ স্থানে ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নরওয়েকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। নরওয়ের ব্রাজিলকে হারানোর পথেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে ৩৮ গোল করেন হালান্ড। তার পারফরম্যান্সে দলটি ঘরোয়া ডাবল জেতে।

৭. উসমান দেম্বেলে

সপ্তম অবস্থানে পিএসজির উসমান দেম্বেলে। লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে প্যারিসের ক্লাবটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ফ্রান্সের বিদায় তার অবস্থানে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে আগের মৌসুমের তুলনায় তার গোলের সংখ্যাও কমেছে।

৮. জুড বেলিংহাম

অষ্টম স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। বিশ্বকাপে সাত গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থান এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

তবে বিশ্বকাপের আগের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি বেলিংহাম। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ছিল ১৩টি।

৯. মাইকেল ওলিসে

নবম অবস্থানে আছেন মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।

বিশ্ব ফুটবলে দ্রুত পরিচিতি পেলেও ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দাবিদারদের তালিকায় এখনো তিনি পিছিয়ে। তবে শীর্ষ দশে জায়গা পাওয়াকে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১০. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

শীর্ষ দশের শেষ স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ক্লাবের হয়ে ৩৬ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন তিনি।

তবে রিয়ালের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারা এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শেষ ষোলো পার করাতে না পারার কারণে তার অবস্থান শীর্ষ দশের শেষদিকে। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে ভালো কিছু মুহূর্ত থাকলেও দলীয় সাফল্যের ঘাটতি তার র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।