...|...|...

ধর্ম

বিয়ে কার সাথে হবে এটা নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৩
Shares
বিয়ে কার সাথে হবে এটা নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ইসলামে এটি শুধু নারী-পুরুষের সম্পর্কের বৈধতা দেওয়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ও সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি পবিত্র বিধান। তাই কার সাথে একজন মানুষের বিয়ে হবে-তা কি আগে থেকেই আল্লাহর তাকদিরে নির্ধারিত, নাকি মানুষের কর্ম, পছন্দ ও সিদ্ধান্তেরও এতে ভূমিকা রয়েছে? এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা জানা জরুরি।

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

সামর্থ্যবান হলেই বিয়ে করা উত্তম। বিয়ে নিয়ে অনেকের কৌতুহল বা জানার আগ্রহ আছে। কেউ কেউ জানতে চান, কার সাথে কার বিয়ে হবে এটা কি আল্লাহ তাআলা আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন নাকি কর্মের মাধ্যমে এর পরিবর্তন হয়?

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের তাকদির লিপিবদ্ধ করেছেন আসমান-জমিন সৃষ্টির ৫০ বছর আগে এবং তিনি যার ভাগ্যে যা লিখেছেন, তাই ঘটবে।’ (সহিহ মুসলিমের সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৭৯)

আরেক হাদিসে আছে, ‘একদিন সাহাবিরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শুধু তাকদির বা ভাগ্যের ওপর ভরসা করে সব আমল ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানালে তিনি বললেন, তোমরা সৎ কাজ করে যাও। কেননা যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজবোধ্য হবে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য তেমন আমল এবং যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য তেমন আমল সহজ করে দেওয়া হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৪৯)

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, জন্ম-মৃত্যুর মতো বিয়ে-শাদি ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত রয়েছে। তাকদিরে (ভাগ্য) লেখা রয়েছে। তাকদিরে যার সাথে বিয়ের কথা লিখিত রয়েছে, তার সাথে বিয়ে হবে। তাকদিরে যা লেখা আছে, তা দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে।

শত চেষ্টা করলেও কাউকে বিয়ে করা যাবে না, যদি না তাকদিরে লেখা থাকে বা আল্লাহর হুকুম হয়। সবকিছু আল্লাহর কাছে, তিনি যা চান, তাই হবে।

বিয়ের ক্ষেত্রে কাউকে পছন্দনীয় হলে বৈধ চেষ্টার পাশাপাশি তাকে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই ভাগ্য (তাকদির) পরিবর্তন করতে পারে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কার সাথে কার বিয়ে হবে, এটা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়।’