...|...|...

জাতীয়

বিভীষিকাময় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর আজ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৮:৩৮ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:১৪
Shares
বিভীষিকাময় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর আজ

ছবি: সংগৃহীত

হাসি-আনন্দে মুখর উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস নিমেষেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরী ও আর্তনাদের জনপদে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত সেই ভয়াবহ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। 

গত বছরের এই দিনে অর্থাৎ ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে বিমানবাহিনীর একটি এফ–৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনের ঠিক সামনে আছড়ে পড়ে এবং ভেতরে ঢুকে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটায়।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ২৮ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী, তিনজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালকসহ মোট ৩৫ জন প্রাণ হারান। এছাড়া আগুনে পুড়ে ও নানাভাবে আহত হন ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ।

ঘটনার দিন মুহূর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। প্রিয়জন হারানোর সেই বেদনা ও বিভীষিকা আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে উত্তরাবাসী তথা পুরো দেশের মানুষকে। অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে ক্লাসে ফিরলেও তাদের মনে ও চোখে এখনও সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আতঙ্ক গেঁথে রয়েছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাস ধরে ১৫০ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ১৬৮টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পর্যালোচনার পর কমিশন ৩৩টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নজনিত মারাত্মক কিছু ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয়। জননিরাপত্তা এবং ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী রক্ষা করতে বিমানবাহিনীর সব প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ অবিলম্বে ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে। একইসাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিরাপদ করতে বরিশাল ও বগুড়ার বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়।

এছাড়া সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোডের সঠিক মানদণ্ড মেনে নির্মাণ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বহুতল ওই ভবনে অন্তত তিনটি পৃথক সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও মাত্র একটি সিঁড়ি থাকায় শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত ও বিকল্প সিঁড়ি থাকলে সেদিন হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্না থামেনি। ২১ জুলাই এখন তাদের কাছে এক জীবন্ত ত্রাস ও বেদনার দিন। গতকাল সোমবার থেকে মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শোকাবহ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। প্রথম দিনে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বা বাইরের অতিথিদের উপস্থিতি ছাড়াই অত্যন্ত ভাবগ গম্ভীর পরিবেশে স্কুলের ১৬টি শাখায় একযোগে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করেই চোখের জলে স্মরণ করেছেন তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া সহপাঠী ও শিক্ষকদের।

মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর জানান, দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহতদের স্মরণে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন স্কুলের ১৬টি শাখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া মাহফিল এবং দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসসহ মাইলস্টোনের সব শাখায় দোয়া এবং বিশেষ স্মারক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। প্রিয় ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের শূন্যতা আর স্বজনদের আর্তনাদে আজও ভারী হয়ে আছে উত্তরার আকাশ-বাতাস।