...|...|...

সারাদেশ

ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে বিকাশ-নগদের টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৯

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৫
Shares
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে বিকাশ-নগদের টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৯

বাগেরহাটের মোংলায় ক্লোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়িক সিম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ফেরদাউসকে (২১) চক্রের মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৭ জুন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ২১ মিনিটের মধ্যে মোংলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ী সেলিম শেখ (৪১)-এর দুটি এবং অপর বিকাশ ব্যবসায়ী বিপ্লব মণ্ডলের (৩৭) একটি ব্যবসায়িক সিম ক্লোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উত্তোলন করে প্রতারক চক্র। পরে সিম তিনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেগুলোতে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ছয়টি পৃথক বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় ১ জুলাই মোংলা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে মামলা হওয়ার দিনই মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে ইয়াছিন সওদাগর (২১) ও মো. শামীম শেখকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। শামীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদ মোড়ল (২০) ও এহসানুল হাসান রাকিবকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূল হোতা ফেরদাউসের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, প্রথমে গ্রেফতার হওয়া চারজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও তদন্তের ধারাবাহিকতায় চক্রের মূল হোতাসহ অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া এলাকার ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া এলাকার রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইনফিনিক্স নোট ১২ প্রো, অরবিট ওয়াই৫০, ইনফিনিক্স, রিয়েলমি সি৫৩, ভিভো ওয়াই৫২, ইনফিনিক্স স্মার্ট ৮, স্যামসাং গ্যালাক্সি এ২৩, রিয়েলমি সি৭ ও টেকনো পোভা নিও ২ মডেলের নয়টি স্মার্টফোন এবং দুটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ২০টি সিম উদ্ধার করা হয়।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম পরীক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং নমুনা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে তাদের ঘটনার সাথে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। প্রতারণার সাথে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।