বাংলাদেশে প্রবাসী আয় প্রবাহে অসাধারন পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ পরিমাণ বেড়েছে ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্য দিয়ে আগের অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো যুক্তরাষ্ট্র এবার নেমে গেছে পঞ্চম অবস্থানে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংসদের তথ্যমতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৮০৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ওমান থেকে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন এবং ইতালি থেকে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, গ্রিস, জর্ডান ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও রেমিট্যান্স বেড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা থেকেও প্রবাসী আয় কমেছে। কানাডা থেকে রেমিট্যান্স ২২১ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ প্রধান উৎসদেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে। এর ফলে দেশের মোট প্রবাসী আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।



