...|...|...

সংবাদ

পায়রা বন্দরে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

পায়রা বন্দরে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৫:২৫ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫৩
Shares
পায়রা বন্দরে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা বন্দর এলাকায় নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।  এতে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগে অনেক জেলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলোর কাছ থেকে প্রতিটি ট্রিপে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়।  সমুদ্রে মাছ ধরার সময় বড় ইলিশের পাশাপাশি অনেক সময় ছোট ইলিশও জালে ধরা পড়ে, যেগুলো জাটকা হিসেবে পরিচিত।  এসব বিষয়সহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলেরা আরও জানান, অনেক সময় সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে নয়, বরং আড়তদার বা ট্রলার মালিকদের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়।  আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরা মাছের নির্দিষ্ট অংশ বা শতাংশ হিসেবেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে জানান, নির্ধারিত অঙ্কের টাকা দিতে না পারলে নৌ-পুলিশের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।  তাদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, জাল পুড়িয়ে দেওয়া, জেলেদের আটক করা, এমনকি অকারণে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

একজন জেলে বলেন, ‘সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ফিরে এসে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।  চাঁদা না দিলে শান্তিতে মাছ ধরাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তবে জেলেদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কারকুন।

তিনি বলেন, ‘নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের কোনো সদস্য জেলেদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেন না।  কেউ যদি এ ধরনের অভিযোগ করে থাকে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

এদিকে স্থানীয় জেলেরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  তাদের দাবি, সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে যদি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকেই হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।