...|...|...

সারাদেশ

পটুয়াখালীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৩
Shares
পটুয়াখালীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার

পটুয়াখালীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার। ছবি: টাইমস টুডে

পটুয়াখালীর দুমকিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পায়রা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একাধিক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাল ফেলছেন জেলেরা। 

রবিবার (১২ অক্টোবর) পাংগাশিয়া এলাকার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকা ও ট্রলারে মা ইলিশ শিকার করতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদীর পাংগাশিয়া, আলগী, লেবুখালী ও আংগারিয়া এলাকা ছাড়াও মুরাদিয়া, লোহালিয়া ও পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে শক্তিশালী ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নদীতে চলাচল করছেন জেলেরা।

রবিবার দুপুর ২টার দিকে পাংগাশিয়ার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে সরেজমিনে গিয়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারে জাল ফেলে ইলিশ শিকারের দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও ওই এলাকায় মাছ ধরতে দেখা যায় জেলেদের।

এ পরিস্থিতিতে মা ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাংগাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, এভাবে যদি নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার চলতে থাকে, তাহলে অচিরেই আমাদের নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে জাতীয় মাছ ইলিশ। অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

অভিযান ও নজরদারির বিষয়ে দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, তাদের একটি মাত্র টহল দল রয়েছে। সেটি কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকা ঘুরে এসেছে। সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে সব এলাকায় একযোগে সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে টহল কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চলছে।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি দাফতরিক সভায় ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নদীতীরবর্তী স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রজনন মৌসুমে এভাবে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত থাকলে ইলিশের বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যৎ উৎপাদনে।