...|...|...

আইন ও আদালত

নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্ট

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৩ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:০০
Shares
নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা সম্পত্তির ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। 

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আদালত এই রায় প্রদান করলেও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, একটি বন্ধকী ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরবর্তীতে অর্থঋণ জারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়। এই নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কেনেন আবেদনকারীরা।

তাদের দর অনুমোদিত হওয়ার পর তারা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেন। অর্থঋণ আদালত ওই জমা এবং পাউন্ডেজ ফি গ্রহণের পর নিলাম মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতা ও ডিক্রিদার ব্যাংক উভয় পক্ষই আদালতে আবেদন করেন। এর আগে আদালতের পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের আলোকে ডিক্রিধারী ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের ওপর ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধের নির্দেশ বহাল রাখা হয়।

এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিসি জারি করে উক্ত নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চে রুল ও সম্পূরক রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, সাথে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করে জানান, নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের নিলাম মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশটি আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং এর কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই। পাশাপাশি আদালত বিতর্কিত এসআরও-এর সেই অংশটিকেও অবৈধ ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেছেন, যেখানে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে পণ্যের নিলাম ক্রেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। আদালত রায়ে আরও উল্লেখ করেছেন, সংসদ যদি কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেয়, তবে কেবল অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির ওপর নতুন করের বোঝা চাপানো যায় না।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এই রায় দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।