...|...|...

লাইফস্টাইল

ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে যেসব খাবার খেতে পারেন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০৪
Shares
ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে যেসব খাবার খেতে পারেন

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এখন শুধু ক্রিম, সিরাম বা সানস্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ নেই রূপচর্চা। কোলাজেন, গ্লুটাথিয়োন, ভিটামিন সি কিংবা ওমেগা-৩-এর মতো নানা সাপ্লিমেন্টও জনপ্রিয় হয়েছে। কারো লক্ষ্য বলিরেখা কমানো, কারও আবার ত্বকে আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক জেল্লা ধরে রাখা।

কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার সবচেয়ে স্বাভাবিক পথ হলো সুষম খাবার। সব ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি নয়,আবার চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্টেরও ভূমিকা থাকতে পারে।

তাই ত্বকের যত্নে শুধু ট্যাবলেট বা থেরাপির দিকে না তাকিয়ে প্রতিদিনের খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার উপায় জানা ভালো।

ভিটামিন সি ট্যাবলেটের বদলে খাবারেই জোর

ত্বকে কোলাজেন তৈরির জন্য ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিনের খাবার থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া সম্ভব। আমলকি, পেয়ারা, লেবু, কমলা, কাঁচা মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি এর ভালো উৎস।

কাজেই সাপ্লিমেন্টের বদলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। অথবা আমলকির রসও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খেলেও ত্বক পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি পাবে।

গ্লুটাথিয়োনের বদলে যা খাবেন

গ্লুটাথিয়োন শরীরের নিজস্ব একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য এর ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের পণ্য ও থেরাপি জনপ্রিয় হলেও বিশেষ করে শিরায় গ্লুটাথিয়োন দেওয়ার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।

এটি একধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা তিন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড গ্লুটামিন, সিস্টিন ও গ্লাইসিন নিয়ে তৈরি। গ্লুটাথিয়োন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে প্রবেশ করানো হয়। তবে সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়। বদলে শরীরে স্বাভাবিক গ্লুটাথিয়োনের মাত্রা বৃদ্ধিতে খাদ্যতালিকায় পালং শাক, ব্রকোলি এবং কাঁচা হলুদ রাখতে পারেন। 

ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টের পাশাপাশি তিসি ও আখরোট

ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা-৩-এর অন্যতম উদ্ভিজ্জ উৎস হলো তিসির বীজ ও আখরোট। চিয়া বীজ, তেলযুক্ত মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

প্রতিদিন খাবারে অল্প পরিমাণ তিসি বা আখরোট যোগ করা সহজ উপায়। তিসির গুঁড়া দই, ওটস, স্মুদি কিংবা সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

কোলাজেন বাড়াতে খাবারও গুরুত্বপূর্ণ

কোলাজেন নিয়ে তৈরি সাপ্লিমেন্টের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। কিছু গবেষণায় ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতায় উপকারের ইঙ্গিত মিলেছে। শরীরের নিজস্ব কোলাজেন তৈরির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রাখা বেশি জরুরি। ডিম, মাছ, দুধ, দই, ডাল, বাদাম, পেয়ারা, আমলকি ও বিভিন্ন ফল-সবজি তাই নিয়মিত খাবারের অংশ হতে পারে।

ত্বকের বয়সের ছাপ শুধু একটি পুষ্টির অভাবেই হয় না। বয়স, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার নানা বিষয় এর সাথে যুক্ত। তাই দামি সাপ্লিমেন্টের পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ঘুম এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়াও জরুরি।