...|...|...

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৩
Shares
ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং চার মাস আগে নেওয়া প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত প্রতি হাজারে পাঁচজনের মৃত্যু হলেও এ বছর তা কমে তিনজনে নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার চার মাস আগেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং তা নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। ২০২৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও রোগের তীব্রতা কম হলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক এবং সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় এক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ ছাড়া প্রতি শনিবার দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমেও কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, তাদের দল ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দিনরাত মশা ও লার্ভা নিধনে কাজ করছেন। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

নগরবাসীর সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা পুলিশ দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢাকার বহুতল ভবনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া ভবনে ঢুকতে পারেন না। অথচ ভবনের নিচে পার্কিংয়ের পেছনে কিংবা ফেলে রাখা ইলেকট্রনিক পণ্যের কার্টনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।

নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের ঘর, ছাদ, বারান্দার টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার চর্চা পরিবারের সদস্যদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।