...|...|...

ধর্ম

জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলওয়াতের অলৌকিক ফজিলত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৭
Shares
জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলওয়াতের অলৌকিক ফজিলত

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পবিত্র দিনে বিশেষ কিছু আমলের নির্দেশ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতপূর্ণ আমল হলো সূরা আল-কাহফ তিলওয়াত করা। পবিত্র কোরআন সহিহ হাদিসের আলোকে জুমার দিনে এই সূরা পাঠের অলৌকিক আত্মিক ফজিলত অপরিসীম।

 . দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর বা আলো লাভ:

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এটি পাঠকারীর জীবনে এক বিশেষ ঐশ্বরিক আলো বা নূর এনে দেয়। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত নূর (আলো) উজ্জ্বল করা হবে।” (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৫৭৯২)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, এই নূর তিলওয়াতকারীর পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা কেয়ামতের কঠিন অন্ধকারে তাকে পথ দেখাবে।

 . দাজ্জালের ফিতনা থেকে অলৌকিক সুরক্ষা:

আখেরী জামানার সবচেয়ে বড় ভয়াবহ ফিতনা হলো দাজ্জালের ফিতনা। রাসূলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে এই সূরাটি পাঠ এর প্রথম শেষ অংশ মুখস্থ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে:

যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯)

 . ঘরে সাকিনাহ বা প্রশান্তি অবতীর্ণ হওয়া:

সূরা কাহফ তিলওয়াতের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত প্রশান্তি (সাকিনাহ) নাজিল হয়। সহিহ বুখারির এক হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি রাতে সূরা কাহফ তিলওয়াত করছিলেন, তখন এক খণ্ড মেঘ অলৌকিকভাবে তার ওপর ছায়া মণ্ডন করে এবং তার ঘোড়াটি চমকে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (সা.) কে এই ঘটনা জানালে তিনি বলেন, এটি ছিল মূলতসাকিনাহ’ (প্রশান্তি), যা কোরআন তিলওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১১)

তিলওয়াতের উত্তম সময়:

জুমার রাতের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে। তাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় সূরা কাহফ তিলওয়াত করলে এই অলৌকিক ফজিলত লাভ করা সম্ভব।

অতএব, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত প্রতি জুমার দিনে অবহেলা না করে সূরা আল-কাহফ তিলওয়াত করা এবং দাজ্জালের ফিতনাসহ যাবতীয় অন্ধকার থেকে নিজেদের ঈমান রক্ষা করা।