চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মধ্যে ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রস্তাব অনুযায়ী দুটি সড়ক সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, নিরাপত্তা ও আবাসিক পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাতে আপত্তি জানিয়েছে সিডিএ। বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।
সিডিএ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। এ এলাকার সাথে একটি শান্ত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন হলে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে প্লট মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সিলিমপুর আবাসিক এলাকার প্লট মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। পরে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে সম্ভাব্য সড়কের স্থান পরিদর্শন করে মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের সড়কটি মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নির্মাণের সুযোগ নেই। তবে বিকল্প হিসেবে খালের পাড় ধরে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। স্থায়ী সড়ক আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে না করাই ভালো। প্লট মালিকদের মতামত অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের ব্যয় নির্ধারণ শেষে তারা সিডিএকে পরবর্তী অগ্রগতি জানাবে।
মতবিনিময় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান সিলিমপুর আবাসিক এলাকাকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাসিন্দাদের খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, সিডিএর ইমারত বিধিমালা মেনে ভবন নির্মাণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
এ সময় দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনের আশ্বাসও দেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এলাকার অন্যান্য নাগরিক সমস্যাও সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
সভা ও পরিদর্শনে সিডিএ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিলিমপুর প্লট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


