চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের (৩২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল তিনটায় নিজ গ্রাম সুটিয়ার ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। হামলার ১০ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার অরোরা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১ মার্চ একই হামলায় আহত মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৪৬) মারা যান।
নিহত মফিজুর রহমান চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ছিলেন। তিনি সুটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসাদহ বাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় মফিজুর রহমানসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১ মার্চ রাতে বড় ভাই হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমান গত ১০ দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে এই ঘটনায় আহত হাফিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর গত ২ মার্চ জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
তারা হলেন- হাসাদহ বাজারের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিন। তবে মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপি নেতা ময়েন উদ্দীন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

