অলিভার কান, জিয়ানলুইজি বুফন, কিংবা ম্যানুয়েল নয়্যার বিশ্ব ফুটবলের সেরা গোলকিপারদের তালিকায় তাদের নাম থাকলেও ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি কেউ। গোল ঠেকিয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কারে গোলকিপাররা কেন পিছিয়ে থাকেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রিভালদোর শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ফিরতি বলে রোনালদোর গোল হজম করেন কান। সেই ভুলে তার পুরো টুর্নামেন্টের অসাধারণ পারফরম্যান্স অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়। অথচ সেবার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের এই পুরস্কার জেতা একমাত্র গোলকিপারও কান।
ব্যালন ডি’অরেও গোলকিপারদের সাফল্য সীমিত। ১৯৬৩ সালে লেভ ইয়াশিনের পর আর কোনো গোলকিপার এই পুরস্কার জিততে পারেননি। ১৯৭৩ সালে দিনো জফ, ২০০৬ সালে বুফন এবং ২০১৪ সালে নয়্যার দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলতে পারেনি।
এর অন্যতম কারণ, গোল ও অ্যাসিস্টের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান সহজে পরিমাপ করা যায়। কিন্তু গোলকিপারের কাজ শুধু সেভে সীমাবদ্ধ নয়। বিপদ আগেই বুঝতে পারা, সঠিক অবস্থানে থাকা, রক্ষণভাগের সাথে যোগাযোগ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর সিদ্ধান্তও দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। এসব অবদান পরিসংখ্যানে পুরোপুরি ধরা পড়ে না।
গোলকিপারের একটি ভুলও অনেক সময় তার পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দেয়। অন্যদিকে ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল করে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। কানের ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনাল সেই বৈপরীত্যের বড় উদাহরণ।
গোলকিপারের প্রভাব শুধু গোল ঠেকানোয় নয়, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর মধ্যেও থাকে। অথচ এসব অবদান নিয়ে আলোচনা হয় গোল ও অ্যাসিস্টের তুলনায় অনেক কম।
২০১৯ সাল থেকে গোলকিপারদের জন্য চালু হয়েছে ইয়াশিন ট্রফি। তবে ব্যালন ডি’অর জিততে হলে গোলকিপারদের অবদানও অন্য পজিশনের খেলোয়াড়দের মতো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা জরুরি। তা না হলে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগত স্বীকৃতির দৌড়ে পিছিয়েই থাকবেন।



