বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ভেন্যুর রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। দেশটির রাজধানী হ্যানয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘ভিনফাস্ট ট্রং ডং স্টেডিয়াম’, যার পরিকল্পিত দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩৫ হাজার। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া ভেন্যুতে পরিণত হবে।
ভিয়েতনামের ভিনগ্রুপের নেতৃত্বে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ‘অলিম্পিক স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের আওতায় স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়ে এক বছর এগিয়ে এনে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আধুনিক স্থাপত্যের সাথে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যকে যুক্ত করে স্টেডিয়ামটির নকশা করা হয়েছে। প্রাচীন ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী ‘ডং সন’ ব্রোঞ্জের ঢোলের আদলে তৈরি হচ্ছে এর মূল কাঠামো। বিশাল এই স্থাপনায় থাকছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যার অন্যতম আকর্ষণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধ করা যায় এমন বিশাল ছাদ। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল ও অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এখানে বড় কনসার্ট এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ভারতের আহমেদাবাদে অবস্থিত নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া ভেন্যু। এর দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩২ হাজার। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের নতুন স্টেডিয়ামে একসাথে ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে হিসাবে ধারণক্ষমতায় ভারতের স্টেডিয়ামটির চেয়ে এটি ৩ হাজার এগিয়ে থাকবে।
তবে এত বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। ভিয়েতনামের ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচগুলোতে গড়ে ৬ হাজারেরও কম দর্শক উপস্থিত থাকার প্রেক্ষাপটে বিশাল এই অবকাঠামো কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
অন্যদিকে, প্রকল্পের উদ্যোক্তা ভিনগ্রুপের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক কনসার্ট, বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য মেগা ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি আয় করতে পারবে। পাশাপাশি বৃহত্তর নগর উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে এটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে বলেও আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।


